Bookmark and Share
Monday, 06.09.2010, 01:11pm (GMT+9) Home FAQ RSS Links Site Map Contact
 
 
 
All News  
বাংলাদেশ
জাতীয়
রাজনীতি
অন্যান্য সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন
আইন ও অপরাধ
বিশেষ সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
জাপানের সংবাদ
জাপান টুকিটাকি
অন্য প্রবাস
বিবেক ভাবনা
জাপানের কথা
বিনোদন
তথ্য প্রযুক্তি
স্বাস্থ্যকথা
খেলার খবর
গ্রামগঞ্জ
সাক্ষাতকার
কৃতিত্ব
সাহিত্য
   » কবিতা
ঘোষণা
::| Poll
বিবেকবার্তার নতুন সাইট কেমন লাগছে?
ভাল
ভাল না
মন্তব্য নেই
 
 
 
সাহিত্য
 
মাইনাস - - -- - - - তপন দেবনাথ
Wednesday, 10.03.2010, 03:24am (GMT+9)

রাত খুব একটা বেশী হয়নি। দশটা বেজে দশ মিনিট। ঢাকা শহরে এটা খুব একটা রাত নয়। রাত জাগা সুমনের খুব একটা অভ্যেস নেই। তবে এগারটার আগে ঘুম আসতে চায় না। আটটার বাংলা সংবাদ সে মনোযোগ দিয়ে শোনেনি। সংবাদের ধরণই এখন যেন কেমন। যে সংবাদ পাঠ করে সে-ও হয়তো সংবাদের সারবস্তু বিশ্বাস করে না। আর ইদানিং এতগুলো চ্যানেল হয়েছে যে অনুষ্ঠান নির্মাণে গুনগত মান বৃদ্ধির চেষ্টা না করে অনুষ্ঠানের মান কিভাবে নিæমুখী করা যায় তারা বোধহয় সে চেষ্টাই করছে। যার কারণে টিভি দেখার প্রতি সুমনের আগ্রহ দিন দিনই কমে আসছে।
টিভিতে ইংরেজি সংবাদ হচ্ছে। খাটে কাৎ হযে শুয়ে সুমন অমনোযোগী হয়ে সংবাদ দেখছে। স্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করছে সে। রানড়বা ঘরের কাজ শেষ করে স্ত্রী এলেই লাইট অফ করে শুয়ে পড়বে।
রানড়বা ঘরের কাজ শেষ করে, সব দরজা-জানালা বন্ধ করে, লাইট অফ করে শাড়ির আঁচল দিয়ে হাত মুছতে মুছতে পরিনীতা এসে খাটের কোনায় বসলো। স্ত্রীর আগমনেই সুমন টিভি অফ করে দিল।
“বন্ধ করলে কেন? আর একটু দেখ।” পরিনীতা বলল স্বামীকে।
“বক্ বকানী ভালো লাগে না। কোন সুখবর নেই। ঘুরে ফিরে একই কথা।”
“সুখবর থাকলে তো সুখবর দিবে। ওদের দোষ কী?”
“ওদরে দোষ বলছি না। দেশে একটা অস্থিরতা বিরাজ করছে। কোন কিছুতেই মন বসছে না। খবরে ওদের মুখ না দেখে তোমার মুখ দেখলে ভালো লাগে।”
মুচকি হাসলো পরিনীতা। স্বামীর দৃষ্টিতে সংবাদ পাঠিকাদের চেয়ে সে গুরুত্বপূর্ণ। এটা কম পাওয়া নয়।
বিছানায় উঠলো পরিনীতা। লম্বা হয়ে শুলো সে।
“লাইট অফ করবো?” স্বামীকে প্রশড়ব করলো পরিনীতা।
“করো।” উত্তর দিলো সুমন।
“লাইট অফ করলে আমার মুখ দেখবে কী করে?” সুইচ বোর্ডে হাত রেখে পরিনীতা লাইট অফ করেও করছে না।
”মনের চোখ দিয়ে।”
“মনের আবার চোখ আছে বুঝি?”
“আছে না মানে? মনের চোখই তো আসল চোখ।” পাশ ফিরে শুলো সুমন।
“অফ করে দিলাম কিন্তু।”
“দাও না।”
পরিনীতা সুইচ অফ করে দিলো।
ঘরটা অন্ধকার হয়ে গেল।
“মনের চোখ দিয়ে দেখে বলো তো এখন আমি কী করছি?” পরিনীতা বলল স্বামীকে।
“আমার বুকের উপর ঝাপ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছো।”
হো: হো: করে হেসে দিল পরিনীতা।
স্বামীকে একটু জব্দ করা যায় কিনা দেখা যাক।
“তোমার বুকের উপর ঝাপ দিবো সেটা কি করে বুঝলে? না-ও তো হতে পারে।” “এই অন্ধকারে একই খাটে আমার বুকে ছাড়া তো সাগরে ঝাপ দেয়ার কোন সুযোগ নেই।”
সমস্ত দেহটি পরিনীতা সুমনের দেহের উপর আছড়ে ফেললো।
সুমনের মুখের কাছে মুখ নিলো পরিনীতা। ঠোঁটের সাথে ঠোঁট ঘষা দিলো।
“তোমাকে অনেকদিন পর্যন্ত একটা কথা বলবো বলবো করে বলা হচ্ছে না। এখন কি বলবো?” পরিনীতা বললো।
“কোন সিরিয়াস কথা?” পাশ ফিরলো সুমন।
“না, তেমন সিরিয়াস নয়। বেশ ক’মাস পর্যন্ত সংবাদপত্রে, লোকমুখে বাংলাদেশে একটা নতুন ফর্মুলার কথা শুনছি। বুঝেই উঠতে পারছিনা কে এই ফর্মূলার জন্মদাতা, কেন এটা নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা।”
“তুমি কি মাইনাস টু ফর্মূলার কথা বলছো?”
“ঠিক ধরেছো। বুঝলে কেমনে?”
“আরে বুঝবো না আবার? দেশে তো এই ফর্মূলা নিয়ে রীতিমত ঝড় বইছে। মাইনাস টু ফর্মূলা তো এখন ম্যানেজ টু ফর্মূলায় রূপ নিয়েছে। যত সব পাগলামী আর কি।”
“পাগলামী কেন?”
“লাইট অন করো। বলি, তাহলে তোমাকে।”
“লাইট লাগবে কেন? অন্ধকারে বলা যায় না?”
“সব কথা অন্ধকারে বলা যায় না। শুনে মজা পাবে না।”
ডিম লাইট অন করলো পরিনীতা।
ডিম লাইটের আলোতে সুমনের মুখ দেখা যায়। পরিনীতা উঠে খাটে হেলান দিয়ে বসলো।
বলতে আরম্ভ করলো সুমনÑ “মাইনাস টু ফর্মূলার আবিষ্কারক একজন অনভিজ্ঞ আনাড়ী টাইপের লোক। পাবলিক সেন্টিমেন্ট, দেশের রাজনীতি সম্পর্কে এই অজ্ঞাত আবিষ্কারকের ধারণা জিরো। মাইনাস টু বলতে যে দেশের দু’টি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে বোঝাচ্ছে সেটা তো বুঝতে পারছো।”
“হ্যাঁ পারছি।” জবাব দিলো পরিনীতা।
“এই ফর্মূলাটি সম্পূর্ণরূপে একটি রং ফর্মূলা। অংক শাস্ত্রে এর কোন ভিত্তিই নেই। কোন একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা থেকে টু মাইনাস করলে একটা ফলাফল দাঁড়াবে। কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা না থাকলে টু মাইনাস করা যাবে কী করে? শূন্য থেকে তো মাইনাস হতে পারে না, তাই না? কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা থেকে ২ বিয়োগ করতে হবে এই উদ্ভট ফর্মূলার কোথাও সে রকম কোন তত্ত¡ বা তথ্য নেই। ফলে মাইনাস টু ফর্মূলা বুমেরাং হয়ে দেখা দিয়েছে। যা এখন ম্যানেজ টুতে রূপ নিয়েছে। যারা এই ফর্মূলার আবিষ্কারক তারাই এখন মাইনাসের মুখে। আবিষ্কারকদের অংক শাস্ত্রে আরো অধ্যয়ন প্রয়োজন। অংক শান্ত্রে ভাবাবেগের কোন মূল্য নেই।
“তুমি ঠিকই ধরেছো। অংক শাস্ত্রে তোমার দেখি...।”
“অংকশাস্ত্রে আমার জ্ঞান জিরো। প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্তরে অংক কষেছো না?”
পরিনীতা জবাব দিলোÑ “কষেছি তো।”
“তাহলে নিশ্চয়ই দেখেছো প্রতিটি অধ্যায় এ প্রথম দিকে কিভাবে অংক কষতে হবে তার সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মাবলী বা ফর্মূলা রয়েছে। ফর্মূলার বাইরে কারো পক্ষেই অংকের সঠিক ফল নির্ণয় সম্ভব নয়। মাইনাস টু নামে যে ফর্মূলার আবিষ্কার করা হয়েছে সে ফর্মূলাই ভুল। অংক মিলবে কী করে? সরল অংক কষেছো না?”
“হ্যাঁ কষেছি।”
“সে সরল অংকের ফর্মূলায় যদি আমরা মাইনাস টু ফর্মূলা বিবেচনা করি তাহলে দেখতে পাব কোন ব্যক্তি দলের প্রধান থাকতে পারবেন কি পারবেন না তা নির্ধারণ করে দলের কাউন্সিলরদের উপর। যারা ভোট দিয়ে কাউকে দলের প্রধান নির্বাচন করেন তারাই আবার ভোট ভোট দিয়ে তাদের দল প্রধানের পদ থেকে অপসারণ করতে পারেন। এখানে সাধারণ জনগণের কিছু করার নেই, সরকারেরও কিছু করার নেই। রাজনৈতিক দলতো কোন সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। দেশের সবকিছুর উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। সুতরাং রাজনৈতিক দলের উপরও সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকতে পারে। কিন্তু মাইনাস-প−াস করার ক্ষেত্রে সরকার কেউ নয়।”
“সরকারকে বেসরকারিকরণ করলে কেমন হয়? নন্দ ঘোষেরও তো এত দোষ নেই, যত দোষ সরকারের।”
হাসলো সুমন। “তা যা বলেছো। সরকারকে বেসরকারিকরণ করলে ভালোই হয়। সরকার তাহলে এত ক্ষমতা পাবে না। বরং জনগণ ক্ষমতায়ন হবে।”
“একটা জিনিস খেয়াল করেছো?” বলল পরিনীতা।
“কি?”
“এই ফর্মূলার যে কে আবিষ্কারক সে সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না। সবকিছু কেমন যেন অস্বচ্ছ, ধোয়াটে-ধোয়াটে। অথচ তা নিয়ে কি হৈ চৈ সর্বত্র।”
“বললাম না তোমাকে, এই ফর্মূলার উদ্ভাবক হচ্ছেন উর্বর মস্তিষ্কের লোক। নিজের বা নিজেদের ক্ষমতা সম্পর্কে সে বা তারা সম্যক অবগত নয়। যে নাটক তারা করেছে তা একটি ব্যর্থ নাটকে পরিণত হয়েছে। আমি একটি নাটক লিখে যদি মঞ্চায়ন করতাম আর তা যদি ব্যর্থ মঞ্চায়ন হতো তবে তা কেবল একজন ব্যক্তির ব্যর্থতাই প্রমাণিত হতো কিন্তু সরকার যা করেছে তাতে সরকার একটি হাসি তামাশার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।”
“ঐ ম্যানেজ ফর্মূলাটি যেন কি বললে?”
“যাঁদেরকে মাইনাস করার চেষ্টা করা হয়েছিল এখন তাঁদেরকে ম্যানেজ করে আঁচলের নীচে ঠাঁই নেয়ার চেষ্টা আর কী। যাকে বলে ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি।”
“হঠাৎ সরকার এমন দুর্বল হয়ে পড়লো কেন? কয়েক মাস আগেই ধর ধর, বছর না ঘুরতেই এখন ছাড় ছাড়। এত বড় বড় দুর্নীতিবাজরা মাত্র কয়েক মাস জেলে থেকেই পুত-পবিত্র হয়ে গেল?”
“আর বলো না সে কথা। সব মিলে যা হয়েছে তা হলো হ-য-ব-র-ল।”
“বার বারই দেশে একটা হ-য-ব-র-ল অবস্থা সৃষ্টি হয়। দেশটা সোজা হয়ে দাঁড়াতেই পারে না। সরকারগুলো বোধহয় শিক্ষিত নয়। আমাকে প্রধানমন্ত্রী করে দিলে সব শালাকে টাইট দিয়ে দিতাম।”
“তার আগে দেখতে তুমিই টাইট হয়ে গেছ। রাষ্ট্র তো সরকার চালায় না, চালায় একটি অপশক্তি অন্তরালে থেকে সব কলকাঠি নাড়ে। যেমনি নাচায়, তেমনি নাচে। শুদ্ধ করে বললে বলতে পারো তৃতীয় শক্তি। এই শক্তিটি এমন একটি শক্তি যাকে দেখা যায় না, ধরা যায় না, ছোঁয়াও যায় না। অথচ খেলা খেলে যাচ্ছে সব সময়। সরকার এই তৃতীয় শক্তির কাছে নতজানু। সরকার যেন এই তৃতীয় শক্তির কাছে খেলার পুতুল। গরিবের বউ সকলেরই ভাবী অবস্থা বলতে পারো।”
“অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সরকার যেন জেলখানার তালা খুলে দিয়েছে। যদি তারা অপরাধীই না হবে তাহলে তাদেরকে গ্রেফতার করা হলো কেন?” বলল পরিনীতা।
“আর বলো না। সরকার দেশটাকে লেজে গোবরে অবস্থা করে ফেলেছে। একটি হাস্যকর ফর্মূলা দিয়ে দেশের সাড়ে বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা দূর্নীতির দায়ে যাদেরকে জেলে পুড়েছিল কোন রকম বিচার কাজ না করেই তাদেরকে ছেড়ে দেয়াতে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিবে আইন এদেরকে ধরতে পারে কিন্তু কিছু করতে পারে না। এরা এখন বুকে হাত দিয়ে গর্ব করে বলবে আমরা কোন অপরাধী নই। অপরাধীহলে ছাড়া পেতাম না। সরকার প্রতিহিংসামূলক আমাদের কারাগারে পাঠিয়েছে।”
“এই সরকারটা কে?” পরিনীতার প্রশড়ব।
“এই সরকারটাই হচ্ছে তৃতীয় শক্তি বা অপশক্তি তারাই সব করে কিন্তু প্রকাশ্যে তাদেরকে দেখা যায় না। আমার মনে হয় এরা ভূত। ভাদ্রমাসে আমাবস্যা রাতে ভূত যেমন এক তালগাছ থেকে লাফ দিয়ে অন্য তালগাছে যায়, বড় বড় তেঁতুল গাছ ঝাঁকুনি দিয়ে ঝড় তোলার গল্প শুনেছো না? সে ভূতকে কি কেউ দেখেছে কখনো?”
“ভূতকে কেউ না দেখলেও ভূত পেতড়বী কিন্তু আছে। সরকার যদি হাতে ভূতের মাদুলী, গলায় কবজ পড়ে, পড়া জল খায় তাহলে তো ভূতের উৎপাত থেকে রক্ষা পায়। ছোটবেলা আমরা এসব কত করেছি? তুমি করোনি? কত সরিষা পড়া খেয়েছি। আমি আবার এলাকার মধ্যে সবার চেয়ে সেরা সুন্দরী ছিলাম কিনা?”
“ও, তাই বলো। পুরুষ ভূতগুলো তোমাকে খুব ডিস্টার্ব করতো বুঝি? তাই ঝুলে পড়লে আমার গলায়?”
“তোমার গলায় ঝুলে পড়লাম মানে? দেখ, বাজে কথা বলবে না কিন্তু।”
“ঠিক আছে, ঠিক আছে তুমি ঝুলে পড়নি, আমি ঝুলে পড়েছি। লাইট অফ করে শুয়ে পড়ো। আমার ঘুম আসছে।”
“করছি। তার আগে বলো মাইনাস টু ফর্মূলার ভবিষ্যত কি? আমি এ নিয়ে গবেষনা করবো। দেশ কোন দিকে যাচ্ছে দেখবো।”
“দেশ আর কোন দিকে যাবে? গেলে দক্ষিণ দিকেই যাবে। বরিশাল, ভোলার পরেই বঙ্গোপসাগর।”
“বাজে কথা রেখে আমার প্রশেড়বর জবাব দাও।”
“এমন করে বলছো যে, মনে হয় রাষ্ট্র বুঝি আমি চালাই।”
“না চালালেও কোন ক্ষতি নেই। তুমি যা বোঝ তাই বলো।”
“বললাম না? মাইনাস টু ফর্মূলা এখন ম্যানেজ টু ফর্মূলায় রূপ নিয়েছে। যেহেতু এটি একটি ভ্রান্ত ফর্মূলা সুতরাং এর কোন ভবিষ্যত নেই। যেহেতু এ ফর্মূলার উদ্ভাবক এক বা একাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তি সুতরাং এ ফর্মূলার কোন প্রয়োগ এদেশে হবার সম্ভাবনা নেই। নিউটনের ফরমূলা, এ্যাডাম স্মীথের ফর্মূলা বা মেলথাসের ফর্মূলা হলে ছিল ভিনড়ব কথা। মাইনাস, টু ফর্মূলা ইতিমধ্যে ম্যানেজ টু তে রূপ নিয়েছে। এরপর এটি ক্ষমতা চাই ফর্মূলায় রূপ নিলেও অবাক হবার কিছু থাকবে না।”
“তার মানে দেশ আগের চেহারায় ফিরে যাচ্ছে?”
“গধু নব। আগের চেয়ে খারাপ হলেও অবাক হবার কিছু থাকবে না।”
“আবার হরতাল, মিছিল, গোলাগুলি পুরনো পরিবেশ? ঐ লাইনচ্যুত ট্রেনটা কোথায় যেন লাইনে উঠে যাচ্ছিল না?”
পাশ ফিরে চীৎ হয়ে সুমন পরিনীতার মুখের দিকে তাকালো। ডিম লাইটের সবুজ মৃদু আলোতে তাকে অপরূপ লাগছে।
“তুমি এসব নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছো কেন?”
“মাথা থাকলে একটু ঘামাতে হয় না? আমিও তো দেশের একজন। দেখলে না মহিলাদের মাইনাস করতে গিয়ে পুরুষগুলো কেমন ভেড়া হয়ে গেল?”
“এই সাবধানে কথা বলে কিন্তু। আমিও পুরুষ।”
“আরে তোমারে বলবো কেন? তুমি তো সুপুরুষ। আমার মনে হয় তোমার ধারণা সঠিক। সবকিছু ঠিকঠাক মতো অগ্রসর হচ্ছিল। একটা অজ্ঞাত শক্তি সব তছনছ করে দিয়েছে। বীজগণিতে মাইনাসে মাইনাসে প−াস একটা ফর্মূলা আছে না?”
“আরে সে তো কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা থেকে একাধিকবার মাইনাস করলে। মাইনাসগুলো একত্র করে মূল সংখ্যা থেকে টু মাইনাস হবে। যদিও তুমি আমি পরিষ্কার বুঝতে পারছি ব্যাপারটা কি? কে কাকে মাইনাস করে? রাষ্ট্র তো একটি খেলার মাঠ নয় যে দু’দল খেলবে একদল অবশ্যই জিতবে, একদল অবশ্যই হারবে। লাইট অফ করো তো। ঘুম আসছে।”
“এই যে করলাম।” লাইট অফ করে পরিনীতা স্বামীর দেহের উপর নিজের দেহটা তুলে দিলো।
“আমিও একটা ফর্মূলা আবিষ্কার করেছি। মাইনাসে মাইনাসে মাইনাস। মাইনাস ইস অলওয়েজ মাইনাস। নেভার বি প−াস।” স্বামীর মুখের কাছে মুখ রেখে বলল পরিনীতা।
“বক্ বক্ বন্ধ করবে নাকি কিছু করতে হবে?”
স্বামীর নাকটা আচ্ছা করে মোচড়ে দিয়ে পরিনীতা বললো- মুখে কিছুই আটকায় না?”
---
 
লস এঞ্জেলেস
০৯/২৯/০৮
বিবেকবার্তা ডট কম


Rating (Votes: )   
    Comments (0)        Tell friend        Print


Other Articles:
হুমায়ুন আজাদ: ক্রুশবিদ্ধ দ্বিতীয় সক্রেটিস (02.03.2010)
ষড়যন্ত্র (24.02.2010)
বাংলা ভাষায় জাপান বিষয়ক একটি আদি গ্রন্থ (22.02.2010)
জাপান নিয়ে বাংলা বই (21.01.2010)
রাবেয়া খাতুনের জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য (28.12.2009)



 
::| Events
September 2010  
Su Mo Tu We Th Fr Sa
      1 2 3 4
5 6 7 8 9 10 11
12 13 14 15 16 17 18
19 20 21 22 23 24 25
26 27 28 29 30