Bookmark and Share
Saturday, 11.09.2010, 08:36am (GMT+9) Home FAQ RSS Links Site Map Contact
 
 
 
All News  
বাংলাদেশ
জাতীয়
রাজনীতি
অন্যান্য সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন
আইন ও অপরাধ
বিশেষ সংবাদ
বিশ্ব সংবাদ
জাপানের সংবাদ
জাপান টুকিটাকি
অন্য প্রবাস
বিবেক ভাবনা
জাপানের কথা
বিনোদন
তথ্য প্রযুক্তি
স্বাস্থ্যকথা
খেলার খবর
গ্রামগঞ্জ
সাক্ষাতকার
কৃতিত্ব
সাহিত্য
ঘোষণা
::| Poll
বিবেকবার্তার নতুন সাইট কেমন লাগছে?
ভাল
ভাল না
মন্তব্য নেই
 
 
 
রাজনীতি
 
জিয়াউর রহমানের ডিএনএ টেস্ট
Sunday, 07.03.2010, 07:17am (GMT+9)

মোজাম্মেল বাবু: ‘জিয়ার কফিনে, জিয়ার লাশ নেই’, পঁচাত্তরের স্বজনহারাদের এমন মন্তব্যে বিরোধী শিবির থেকে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কেউ কেউ তাদের রুচিবোধ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, যদিও আপনজনের ছিন্নভিন্ন লাশের বীভৎস স্মৃতি যারা তিন যুগ ধরে মস্তিষ্কে বহন করে বেড়াচ্ছে, খুনের দোসরদের সম্পর্কে উচ্চারিত তাদের বক্তব্যে নান্দনিকতা না খোঁজাই শ্রেয়। সংসদে সৃষ্ট এ বিতর্ক বিষয়টি নিয়ে আজ বৃহত্তর পরিসরে আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে। এখন বিশ্লেষণ করে দেখা প্রয়োজন কে এ জিয়াউর রহমান? ১৯৮১ সালের ৩০ মে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের তিনদিন পর, রাঙ্গুনিয়ার কবর থেকে তুলে এনে কাকে বিশাল জানাজা শেষে সংসদ ভবনের অক্ষ বরাবর দাফন করে সৌধ নির্মাণ করা হয়েছিল? সময়ের ডিএনএ পরীক্ষায় কীইবা এখন তার সর্বশেষ পরিচয়?
 
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত অসহযোগ উপেক্ষা করে মেজর জিয়াউর রহমান ‘সোয়াত’ জাহাজ থেকে হানাদার বাহিনীর হয়ে অস্ত্র খালাস করেছেন। ততক্ষণে মেজর শফিউল্লার নেতৃত্বে গাজীপুর ইউনিটসহ সেনাবাহিনী ও ইপিআরের বড় একটা অংশ বিদ্রোহ করে ফেলেছে। ২৫ মার্চ গভীর রাতে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পাকিস্থানিদের ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলে ২৬ মার্চ জিয়াও মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ২৭ মার্চ যথাসময়ে যথাস্থানে (রাইট টাইম অ্যাট রাইট প্লেস) উপস্থিত থাকার সুবাদে তিনি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে একজন সেনাকর্মকর্তা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা ‘রিলে’ করার সুযোগ পান। সংগ্রাম পরিষদের নেতাকর্মীরা যা ২৫ মার্চ গভীর রাত থেকেই রিকশা-বেবিট্যাক্সি যোগে মাইকিং করে বেড়িয়েছে। মেজর জিয়া তার প্রথম স¤প্রচারে নিজেকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দাবি করলেও, উপস্থিত অন্যদের আপত্তির মুখে পরবর্তীকালে তা শুধরে নিয়ে তিনি ‘ -- - অন বিহাফ অব আওয়ার গ্রেট লিডার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান  - - --’ কথাটি উল্লেখ করেন। তখন মুখ ফসকে ‘অ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট’ বলে ফেলাটাকে অনিচ্ছাকৃত ভুল কিংবা চেতনাশূন্যতা মনে হলেও, এখনকার বিবেচনায় তা তার রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষেরই ইঙ্গিত বহন করে। এ ঘটনার ধারাবাহিকতায় তার জীবদ্দশায় তিনি নিজেকে কখনো ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ হিসেবে পরিচয় দেননি, যা তার দল আশির দশকের শুরু থেকে হঠাত বলতে শুরু করে। ৫০ কিলোমিটার স¤প্রচার রেডিয়াসের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত জিয়ার কণ্ঠ রংপুর, দিনাজপুর এলাকা থেকে নিজ কানে শুনে যুদ্ধে যাওয়ার উদ্ভট দাবিও উচ্চারিত হয়েছে বিএনপির অনেক নেতাদের মুখে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে ‘- - -  বঙ্গবন্ধুর ডাকে এদেশের জনগণ ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে - - - ’ এমন সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকা সত্তে¡ও বিএনপি পাঠ্যপুস্তকে পর্যন্ত ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ বিষয়টি মুদ্রণ করতে থাকে। সম্প্রতি আদালতের এক রায়ে জিয়াউর রহমানকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ হিসেবে প্রচার করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
 
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ইতিহাসের নৃশংসতম এক হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হলে রাষ্ট্রক্ষমতা এক দস্যুর হাত থেকে আরেক দস্যুর হাত ঘুরে মূল বেনিফিসিয়ারি জিয়াউর রহমানের কুক্ষিগত হয়। তিনি ‘হ্যাঁ-না’ ভোট আয়োজন এবং পঞ্চম সংশোধনী পাস করে বৈধতা পাওয়ার প্রয়াস পান। এছাড়া ‘ইনডেমনিটি বিল’ প্রণয়নের মাধ্যমে তিনি ১৫ আগস্টের খুনের বিচারের পথ রুদ্ধ করে দেন এবং আত্মস্বীকৃত খুনিদের বাংলাদেশ দূতাবাসের বিভিন্ন উচ্চপদে বহাল করেন। তারা বিভিন্ন বিদেশি গণমাধ্যমে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ‘ইনডেমনিটি বিল’ বাতিল হয় এবং ৮ বছরের ব্যাবধানে তারা আবার ক্ষমতায় এলে ২০১০ সালের ২৫ জানুয়ারি জিয়াউর রহমানের আশ্রয়, প্রশ্রয় ও মদদপুষ্ট খুনিদের ফাঁসি হয়। জিয়া পঁচাত্তরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে ‘রাজনৈতিক পটপরিবর্তন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন, খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় আজ খুনের দোসর ছাড়া তার আর অন্য কোনো পরিচয় নেই। সমসাময়িক সময়ের আরেক যুগান্তকারী রায়ে পঞ্চম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করায় মোশতাক ও সায়েমের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের শাসনামলও অবৈধ হয়ে যায়।
 
জিয়াউর রহমান তার ক্ষমতা গ্রহণের নৈতিক বৈধতা প্রতিষ্ঠায় বাকশালের অপশাসনের অবসান ঘটানোর কৃতিত্ব দাবি করে গেছেন এবং তার দল আজো তা বলে বেড়াচ্ছে, যদিও তিনি নিজেই সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান থাকাকালীন উদ্যোগ নিয়ে বাকশালে যোগদান করেছিল। আজ সিআইয়ের ডি-ক্ল্যাসিফায়েড দলিল থেকে সকলেই জানতে পারছে যে, সারাবিশ্বে সমাজতন্ত্রের জয়-জয়কার প্রতিহত করতে সেসময় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কিলিং মিশনের অন্যতম একটি ছিল পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ড। পুঁজিবাদের সা¤প্রতিক মহাধসে তার অন্তঃসারশূন্যতা বেরিয়ে পড়ায় অনেকেই এখন নতুন করে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির কথা ভাবছে। ১৯৭৫ সালে ‘বাকশাল’ কায়েম হলে আজ আমরা নিজস্ব অর্থনীতির শক্ত বুনিয়াদের ওপর দাঁড়িয়ে চীন-ভারতের মতো বিশ্বজয়ে নামতে পারতাম, যা মার্কিনিদের প্ররোচনায় মোশতাক-জিয়া গংরা হতে দেয়নি।
 
১৯৭৫-এর ৭ নভেম্বর ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে সংঘঠিত দুডজনেরও অধিক সেনা অভ্যুত্থানে প্রাণ দিতে হয়েছে কয়েক হাজার সেনাসদস্যকে। এমনকি একটি সেনা ব্রিগেডের কমান্ডার থেকে ড্রাইভার পর্যন্ত ৬০ সদস্যকেই ফাঁসিতে ঝোলানো হয়, যা আজো পুনর্গঠন করা সম্ভব হয়নি। তিনি ঠাণ্ডা মাথায় চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে মৃত্যু পরোয়ানায় স্বাক্ষর করতেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে অনুরূপ এক অভ্যুত্থানে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এ হত্যাকাণ্ডে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সমর্থন থাকলেও তিনি বিদ্রোহ দমনের নামে জেনারেল মঞ্জুরকে হত্যা এবং জেনারেল শওকতকে চাকরি থেকে সরিয়ে দিয়ে এক ঢিলে তিন পাখি মেরেছেন এবং এরপর হিন্দি ছবির ভিলেনের মতো মহা-জিয়াপ্রেমী সেজে রাঙ্গুনিয়া থেকে লাশ তুলে এনে টেলিভিশনে ভাঙা সুটকেস ও ছেঁড়া গেঞ্জির পসরা দেখিয়ে দেশবাসীর ইমোশন ড্রাম-আপ করে বিশাল জানাজা আয়োজন শেষে গণতন্ত্রের শরীরে উর্দি পরানোর উদ্দেশ্যে সংসদ ভবন এলাকায় দাফনের বন্দোবস্ত করেন, যার অল্প ক’দিনের মধ্যেই পরিকল্পনামাফিক বিচারপতি সাত্তারকে সরিয়ে দিয়ে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।
 
সেদিন জিয়াউর রহমানের কফিনে যে লাশটি দাফন করা হয়েছিল তার পরিচয় ছিল মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার, একজন বীরউত্তম, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা এবং দেশকে ‘বাকশাল’ দুঃশাসন থেকে রক্ষাকারী এক সূর্যসন্তান, যিনি নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন আততায়ীর হাতে নিহত হন; পরবর্তীকালে যাকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে ফলাও করে কবরটিকে সৌধে পরিণত করা হয় এবং ক্রিসেন্ট লেকে পড়া সংসদ ভবনের প্রতিবিম্ব চিড়ে নির্মিত হয় এক ঝুলন্ত সেতু।
 
আজ আদালতের রায় এবং উদঘাটিত সত্যের আলোকে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, জিয়াউর রহমান মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মদদপুষ্ট, খুনের দোসর, বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত বিনষ্টকারী একজন রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষী অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী সামরিক জান্তা ছাড়া আর কিছুই নন, যিনি মেধাবী ছাত্রদের হাতে বইয়ের বদলে অস্ত্র তুলে দিয়েছেন এবং যাকে কালো চশমা খুলে কখনো মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে দেখা যায়নি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর একজন মুক্তিযোদ্ধা ভেবে যারা তার দলে যোগ দিয়েছিলেন, রাজাকার-আলবদর পুনর্বাসন রাজনীতির অংশীদার হয়ে তারা এখন নিজের কান মলছে। কারো আজ বুঝতে বাকি নেই যে, তার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ মুসলিম লীগের পাকিস্থানি জাতীয়তাবাদের নামান্তর মাত্র। যে সব সরলপ্রাণ মানুষ ১৯৮১ সালের ২ মে নবযুগের এক ‘খলিফা’র জানাজায় অংশগ্রহণ করেছিল, ভাঙা সুটকেস থেকে বের হওয়া তার সোনার ছেলেদের অর্থ-বিত্তের পাহাড় দেখে তাদের অনেকেই আজ জিহ্ববা কাটছে। যেখানে বাংলার জনগণ ২৫ মার্চ গভীর রাতে ইপিআর ওয়্যারলেস এবং বলধা গার্ডেনে স্থাপিত ট্রান্সমিটার থেকে প্রচারিত বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণায় সাড়া দিয়ে যার যা আছে তাই নিয়ে মুক্তি-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, সেখানে ২৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ারও জিয়াউর রহমান কেউ নন। ২৬ মার্চ যেদেশের স্বাধীনতা দিবস, ২৭ মার্চ সেদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিবস হতে পারে না। এমনকি তিনি আদৌ সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তার ‘বীরউত্তম’ খেতাবটি পর্যন্ত পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে। কেউ কেউ সময়ের চাকা পেছনে ঘোরানোর অভিযোগে তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ‘খলনায়ক’ হিসেবে আখ্যায়িত করতেও ছাড়ছেন না। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, চন্দ্রিমা উদ্যানে দাফন করা ‘জিয়া’র কফিনে এখন আর ‘জিয়া’র লাশ নেই!
বিবেকবার্ত ডট কম


Rating (Votes: )   
    Comments (0)        Tell friend        Print


Other Articles:
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি : সংসদে মারমুখী সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা (04.03.2010)
রাবিতে এক কর্মচারি গ্রেপ্তার (03.03.2010)
আওয়ামী লীগের সদস্য হলেন জয় (26.02.2010)
রাবিতে ছাত্রশিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু ও মানববন্ধন (24.02.2010)
নাম বদলের রাজনীতি (22.02.2010)



 
::| Events
September 2010  
Su Mo Tu We Th Fr Sa
      1 2 3 4
5 6 7 8 9 10 11
12 13 14 15 16 17 18
19 20 21 22 23 24 25
26 27 28 29 30