সোনালী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা ও দুই সোর্স আটক
Wednesday, 10.03.2010, 03:08am (GMT+9)
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি,মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বিভিন্ন দেশীয় মুদ্রাসহ সোনালী ব্যাংকের সিংগাইর শাখার এক জুনিয়র অফিসারসহ মুদ্রার সন্ধানদাতা ও অপর দুই সোর্সকেও পুলিশ আটক করেছে। পুলিশ ওই ব্যাংক কর্মকর্তার কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন দেশের মুদ্রা উদ্ধারের কথা স্বীকার করলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে উদ্ধারকৃত মুদ্রার মূল্য আরো অনেক বেশি। সোমবার সন্ধ্যা রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিংগাইর বাসষ্ট্যান্ড এলাকা থেকে এই ব্যাংক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন দেশের মুদ্রাসহ আটক করা হয়। সারারাত অবধি সিংগাইর থানায় আটককৃত মুদ্রার হিসাব-নিকাশও করা হয়। এ সময় অতিগোপনীয়তা রক্ষা করে মিডিয়াকর্মীদের কোন সঠিক তথ্য দিতে গড়িমসি করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। জানা গেছে, সিংগাইর থানা থেকে মাত্র ২’শ গজ দূরে সিংগাইর বাসষ্ট্যান্ড এলাকা থেকে পুলিশ সোনালী ব্যাংকের সিংগাইর শাখার জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) মোঃ শাজাহানকে সোম বার রাতে ইউরো, ডলার, দিনার, রিয়াল, মালয়েশিয়ান রিংকস, অন্যান্য দেশের বিপুল পরিমাণ মুদ্রাসহ পুলিশ আটক করে। এ সময় মুদ্রার সন্ধানদাতা সালাউদ্দিন ও শহিদুলকেও পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে। আটককৃত ব্যাংক কর্মকর্তা শাজাহান স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, তার ভাইয়ের কাছে ২৫ লাখ টাকারও অধিক পরিমাণ মুদ্রা ছিল। সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, শাজাহানের কাছ থেকে উদ্ধার করা মুদ্রার দেশীয় মূল্য প্রায় ১৮ লাখ টাকা। তিনি জানান, অনেক রাত অবধি উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে মুদ্রাগুলো গণনা করা হয়েছে। কোন মুদ্রা খোয়া যায়নি। এদিকে মানিকগঞ্জ সোনালী ব্যাংক, মানিকগঞ্জ জোনালের এজিএম সুধন চন্দ্র দাস জানান, ব্যাংকে কর্মরত কোন র্কর্মকর্তা বা কর্মচারির মুদ্রা ব্যবসা করার কোন বৈধতা নেই। কেবলমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের অথরাইজড ডিলার ব্যতীত কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মুদ্রা ব্যবসা করতে পারেন না। মানিকগঞ্জে সোনালী ব্যাংকের ১১টি শাখার মধ্যে কোনটাতেই বিদেশি মুদ্রা ভাঙ্গানো ও বিক্রির কোন নিয়ম নেই। তিনি আরো বলেন, পুলিশ শাজাহানকে আটক করেছে এটা শুনেছি। স্থানীয় শাখা ব্যবস্থাপক লিখিতভাবে বিষয়টি আমাকে জানালে শাজাহানকে সামায়িক বরখাস্ত করা হবে। সোনালী ব্যাংক সিংগাইর শাখার ব্যবস্থাপক অরূন চন্দ্র সরকার জানান, শাজাহান মাঝে মধ্যেই অফিসে অনুপস্থিত এবং কাজে ফাকি দিত। গ্রাহকদের সাথেও দুর্ব্যবহার করতো। এ বিষয়গুলো সোনালী ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জানেন। কিন্তু সে যে অবৈধ মুদ্রা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এটা আগে জানা ছিল না। এদিকে খোজ নিয়ে জানা গেছে, সোনালী ব্যাংকের মানিকগঞ্জের বিভিন্ন শাখায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী অবৈধ মুদ্রা ব্যবসা করে যাচ্ছে দীর্ঘ দিন ধরে। তাদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাত কারণে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। -মো. সোহেল রেজা
Bibekbarta.com
|