সৈয়দ নাহাস পাশা, বাংলাদেশের দারিদ্র্য দূর করায় বাধা জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্নীতি। যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি) পার্লামেন্টারি সিলেক্ট কমিটি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একথা জানিয়েছে। বাংলাদেশ বিষয়ে প্রকাশিত ৬৪ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯০-এর দশকের তুলনায় ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ দারিদ্র্যহার ১৭ শতাংশ কমাতে পেরেছে। ১৯৯০-এ এ হার ছিলো ৫৭ শতাংশ, ২০০৫-এ তা কমে হয় ৪০ শতাংশ। এরপরও দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অনেক কিছুই করার রয়েছে। ডিএফআইডি বাংলাদেশে তার কার্যক্রম তদন্ত করার ঘোষণা দেয় গতবছর। সেবছরের নভেম্বর মাসে যুক্তরাজ্যের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট সিলেক্ট কমিটির সদস্যরা বাংলাদেশ সফরে আসেন। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের ১৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে লিখিত প্রমাণ সংগ্রহ করে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের যাদের কাছ থেকে লিখিত প্রমাণ নেওয়া হয় তাদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাবিদ, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি এবং যুক্তরাজ্য সরকারও রয়েছে। সিলেক্ট কমিটি অবশ্য গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বৃটিশ পার্লামেন্টে তিনবার মৌখিক প্রমাণ সংগ্রহ অনুষ্ঠানও আয়োজন করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনীতির ধারাবাহিক উন্নয়ন সত্ত্বেও নিম্নমানের শাসনব্যবস্থা ও উচ্চ মাত্রার দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশে দারিদ্র্য দূর করায় ব্যাপক সাফল্য আসছে না। একের পর এক যে সরকারই এসেছে তারা দরিদ্র ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দারিদ্র্য দূর করার বদলে প্রায়ই ব্যক্তিগত ও দলের সমর্থকদের জন্যই ব্যবহার হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়। ১১ সদস্যের সিলেক্ট কমিটির চেয়ারম্যান লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলীয় এমপি ম্যালকম ব্রুস। তিনি বলেন, "বাংলাদেশে ছয় কোটি ৪০ লাখ মানুষের দৈনিক আয় এক ডলারেরও কম। এদের মধ্যে সাড়ে তিন কোটি মানুষ চরম দরিদ্র এবং দেড় কোটি মানুষের দৈনিক আয় প্রায় ২০ পেনি।"

তিনি বলেন, "বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জনগণ লাভবান হয় না এবং রাজনৈতিক পদ্ধতির কারণে এরা পিছিয়ে থাকে। ডিএফআইডির কর্মসূচির মাধ্যমে জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায় ডিএফআইডি।" ম্যালকম বলেন, "যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক সাহায্য পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ। চলতি অর্থ বছরে বাংলাদেশে ডিএফআইডির ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে।" ২০১০-১১ সালে বাংলাদেশে ডিএফআইডির সহায়তা ১৫ কোটি ডলারে দাঁড়াবে জানিয়ে তিনি বলেন, "এর ফলে দ্বিপাক্ষিক হিসেবে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় দাতা হবে।" তিনি বলেন, "যুক্তরাজ্যে বসবাসরত পাঁচ লাখ বাংলাদেশি বৈদেশিক মুদ্রা ও অন্যান্য সাহায্যের মাধ্যমে বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।" এ প্রবাসীদের সহায়তায় বাংলাদেশে শাসনব্যাবস্থার উন্নতি ও দারিদ্র কমানোর কাজে গতি আসতে পারে বলে মন্তব্য করেন ম্যালকম।
"বাংলাদশেরে ভবষ্যিত সমবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে তাদরে যোগ্যতা ও ইচ্ছা রয়ছে। বাংলাদশেরে শাসনব্যবস্থার উন্নয়ন ও দারদ্র্যি বিমোচনে গৃহীত পদক্ষপে তাদরে এ সহযোগিতার মাত্রা আরো বাড়াতে পার।" প্রতিবেদনে বাংলাদেশের উদ্ভাবনীক্ষমতাসম্পন্ন এনজিও সমপ্রদায়ের প্রশংসা করা হয়। সিলেক্ট কমিটির চেয়ারম্যান ম্যালকম বলেন, "বাংলাদেশের এনজিওগুলো বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জীবনযাপন ও ক্ষুদ্র ঋণ সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নতুন উপায় বের করেছে।" ডিএফআইডি সরকারি-বেসরকারি দুই ক্ষেত্রেই সহায়তা দেয় জানিয়ে ম্যালকম বলেন, "ডিএফআইডি সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের মধ্যে সংযোগ তৈরির চেষ্টা করছে।" তিনি বলেন, "জলবায়ু পরর্বিতনরে প্রভাবরে সঙ্গে খাপ খাওয়াতে দরদ্রিদরে সহায়তা করা গুরুত্বর্পূণ। চর এলাকাগুলোতে ডি এফ আই ডির একটি চমৎকার র্কমসূচি আমরা দেখিতেছি যা একইসঙ্গে দারদ্র্যি বিমোচন ও জলবায়ু পরিবর্তজনিত প্রভাবের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়।" "এ ধরণরে আরো অনকে কাজ করা প্রয়োজন। জলবায়ু পরর্বিতনরে প্রভাবে ৩ কোটি জনগণকে তাদরে ঘরবাড়ি হারাতে হতে পার। ডি এফ আই ডির উচিত এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখা। দাতাদের অবশ্যই এ জলবায়ু জনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশকে পর্যাপ্ত তহবিল দিতে হবে।" এই তহবিল অবশ্যই ইতিমধ্যে দারিদ্র্য মোকাবেলায় বাংলাদেশকে দেওয়া সাহায্যের প্রতিশ্রুতির বাইরে হতে হবে বলে মন্তব্য করেন ম্যালকম। কমটিরি অন্য সদস্যরা হলনে, জন ব্যাটল, হুগ বেলে, রিচার্ড বার্ডেন, নাইজলে ইভান্স, মার্ক হন্ডেরকি, ড্যানিয়েল কজিনস্কি, র্মাক ল্যাঙ্কাস্টার, বীরন্দ্রে শর্মা, মার্শা ও অ্যান্ড্রু স্টুনলে।