'১৩ মাসে নির্যাতিত নারীদের নাম-ঠিকানা বলুন'
Wednesday, 10.03.2010, 03:34am (GMT+9)
খালেদা জিয়াকে গত ১৩ মাসে সারা দেশে নির্যাতিত ২০ ভাগ নারীর নাম, ঠিকানা ও ঘটনা প্রকাশ করতে বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে মঙ্গলবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে আশরাফ একথা বলেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সোমবার বিএনপি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধী দলী নেত্রী খালেদা জিয়া বলেন, "গত ১৩ মাসে এ সরকারের আমলে সারাদেশে ২০ ভাগ নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন"। খালেদার বক্তব্যকে 'একেবারেই ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও রাজনৈতিক বিদ্বেষপ্রসূত নির্জলা মিথ্যাচার' আখ্যায়িত করে মঙ্গলবার সৈয়দ আশরাফ বলেন, "যুদ্ধপরাধীদের বিচার শুরু হচ্ছে। কে, কোথায় কতজন নারীকে হত্যা করেছে, কতজন নারীকে ধর্ষণ করেছে এবং মনোরঞ্জনের জন্য কতজন নারীকে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে, তা বেড়িয়ে আসবে। এজন্যই তিনি (খালেদা জিয়া) নার্ভাস হয়ে এসব কথা বলছেন।" এক প্রশ্নের জবাবে আশরাফ জানান, চারদলীয় জোট সরকারের সময় নারী নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে কমিশন হয়েছে। যারা সেসময় নারী নির্যাতন করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। আশরাফ বলেন, "আমরা চ্যালেঞ্জ দিলাম, এক কোটি ৬০ লাখ নির্যাতিত নারীর নাম, ঠিকানা এবং ঘটনাস্থল জাতির সামনে প্রকাশ করুন। আমরা গঠনমূলক বিরোধীদলীয় নেত্রী চাই। দায়িত্বশীল পদে থেকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট না করার আহবান জানাবো।" আরেক প্রশ্নের জবাবে আশরাফ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর যেসব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছিল তাদের মধ্যে যারা বেঁচে আছেন ও সুস্থ তাদের বিচার হবে। যেসব ব্যক্তি, সংগঠন ও দল যুদ্ধাপরাধে জড়িত ছিলো, তাদের চিহ্নিত করে বিচার করা হবে। এর আগে লিখিত বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, "আমরা মনে করি, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে সংঘটিত সংখ্যাতীত অন্যায়-অত্যাচারের দুঃসহ-স্মৃতি থেকে জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে হীন মানসে তিনি এই কদর্য মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা বিরোধী দলের নেতার মতো একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির মুখে এহেন কুৎসিত মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।" আশরাফ নারী সমাজের কাছে খালেদা জিয়াকে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানান। আশরাফ বলেন, "যে খালেদা জিয়া মায়াকান্না কাঁদছেন, সেই তিনিই নারী উন্নয়ন নীতিকে বাতিল করে উগ্র ধর্মান্ধ সা�প্রদায়িক জামায়াত গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করতে ক্ষমতার ভাগাভাগিতে মত্ত ছিলেন।" সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মণি ছাড়াও সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের মহিলা সাংসদ, যুব মহিলা লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিবেকবার্তা ডট কম
|